বাংলাদেশে দুগ্ধ খামারে বর্তমানে দেশি, সংকর (Crossbred) ও বিদেশি জাতের গাভী পালন করা হয়ে থাকে। প্রতিটি জাতেরই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য, সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা আছে। নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো—
দেশি গাভী
বৈশিষ্ট্য:
- আকারে ছোট ও হালকা গঠন।
- গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় সহজে মানিয়ে নিতে পারে।
- রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি।
- কম খাবার খেয়েও বেঁচে থাকতে পারে।
দুধ উৎপাদন:
- দৈনিক: ২–৪ লিটার
- চর্বির পরিমাণ: ৪–৫% (ঘন ও সুস্বাদু দুধ)
সুবিধা:
- কম খরচে পালন করা যায়।
- রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম।
সীমাবদ্ধতা:
- দুধ উৎপাদন তুলনামূলকভাবে কম।

সংকর গাভী (Crossbred Cows)
উৎপত্তি:
- দেশি গাভীর সাথে বিদেশি জাত (Holstein Friesian, Jersey, Sahiwal ইত্যাদি) ক্রস করেই তৈরি।
বৈশিষ্ট্য:
- আকারে মাঝারি থেকে বড়।
- দেশি জাতের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ও বিদেশি জাতের বেশি দুধ উৎপাদন ক্ষমতা—দুটোরই মিশ্রণ।
- বাংলাদেশের আবহাওয়ায় বিদেশি জাতের তুলনায় সহজে মানিয়ে নিতে পারে।
দুধ উৎপাদন:
- দৈনিক: ৬–১২ লিটার
- চর্বির পরিমাণ: ৩.৫–৪.৫%
সুবিধা:
- দেশি গাভীর চেয়ে দুধ বেশি দেয়।
- বিদেশি জাতের চেয়ে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো।
সীমাবদ্ধতা:
- সঠিক খাবার ও যত্নের প্রয়োজন বেশি।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দেশি জাতের তুলনায় কম।

বিদেশি জাতের গাভী
Holstein Friesian (HF)
- উৎস: নেদারল্যান্ডস / ইউরোপ।
- রঙ: কালো-সাদা দাগযুক্ত।
- দৈনিক দুধ: ১৫–৩০ লিটার বা তার বেশি।
- চর্বি: ৩–৩.৫%।
বৈশিষ্ট্য:
- দুধ উৎপাদনে বিশ্বে সেরা।
- আবহাওয়া ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক কম।
Jersey
- উৎস: যুক্তরাজ্যের জার্সি দ্বীপ।
- রঙ: হালকা বাদামি থেকে গাঢ় বাদামি, মুখে সাদা দাগ থাকতে পারে।
- দৈনিক দুধ: ১০–১৮ লিটার।
- চর্বি: ৪.৫–৫.৫% (অত্যন্ত ঘন দুধ)।
বৈশিষ্ট্য:
- শরীর ছোট ও খাবার কম লাগে।
- গরম আবহাওয়ায় Holstein এর চেয়ে ভালো মানিয়ে নিতে পারে।

Sahiwal (সাহীওয়াল)
- উৎস: পাকিস্তান।
- রঙ: হালকা লালচে বাদামি।
- দৈনিক দুধ: ৮–১২ লিটার।
- চর্বি: ৪–৫%।
বৈশিষ্ট্য:
- দক্ষিণ এশিয়ার আবহাওয়ার জন্য উপযোগী।
- রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো।

Brown Swiss
- উৎস: সুইজারল্যান্ড।
- রঙ: ধূসর থেকে বাদামি।
- দৈনিক দুধ: ১২–২০ লিটার।
- চর্বি: ৪%।
বৈশিষ্ট্য:
- দীর্ঘজীবী ও শক্তপোক্ত।
- তুলনামূলক উষ্ণ অঞ্চলেও মানিয়ে নিতে পারে।

