আমাদের দেশে সাধারণত ৪ টি জাতের সিমেন পাওয়া যায়। এই চারটি জাত বিভিন্ন দেশি বা বিদেশি জাতের গাভির সাথে ক্রস করে এই চারটি জাতের বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টের বাছুর পাওয়া যায়। এগুলোই পরবর্তিতে অধিক উৎপাদনশীল ষাঁড় গরুতে পরিনত হয়।
১) দেশি ষাঁড় (পাবনা / মুন্সীগঞ্জ)
পরিচিতি:
বাংলাদেশের পাবনা ও মুন্সীগঞ্জ অঞ্চলে উন্নত দেশি জাত হিসেবে পরিচিত। এটি মূলত দেশি গরুর উন্নত লাইন, দুধ ও মাংস—দুই ক্ষেত্রেই মাঝারি থেকে ভালো পারফরম্যান্স দেয়।

বৈশিষ্ট্য:
- গায়ের রঙ সাদা, ধূসর বা সাদাটে-কালো মিশ্র।
- শরীর মাঝারি থেকে বড়, বুক প্রশস্ত ও পা মজবুত।
- স্থানীয় আবহাওয়ায় অত্যন্ত সহনশীল।
- রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো।
- কৃষিকাজ ও প্রজননে উপযোগী।
- মোটাতাজাকরণে তুলনামূলক ভালো ফল দেয়।
২) দেশি ষাঁড় (রেড চিটাগাং)
পরিচিতি:
চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিখ্যাত উন্নত দেশি জাত। “রেড চিটাগাং” বাংলাদেশে স্বীকৃত একটি উন্নত স্থানীয় জাত।

বৈশিষ্ট্য:
- গায়ের রঙ উজ্জ্বল লাল বা লালচে বাদামী।
- শরীর মাংসালো, বুক চওড়া ও পা শক্তিশালী।
- রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি।
- গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় মানিয়ে নিতে সক্ষম।
- প্রজননে ভালো ফল দেয়।
- মাংসের গুণগত মান উন্নত।
৩) শাহীওয়াল ষাঁড়
পরিচিতি:
পাকিস্তানের পাঞ্জাব অঞ্চলের বিখ্যাত দুগ্ধজাত গরুর জাত। দক্ষিণ এশিয়ায় অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং বাংলাদেশেও ব্যাপকভাবে পালন করা হয়।

বৈশিষ্ট্য:
- গায়ের রঙ লালচে-বাদামী।
- শরীর বড় ও ভারী।
- তাপ সহনশীলতা ভালো।
- প্রজনন ক্ষমতা উন্নত।
- ক্রসব্রিড উন্নয়নে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত।
- মাংস ও দুধ—উভয় উৎপাদনে উপযোগী।
৪) হলস্টিন ফ্রিজিয়ান ষাঁড়
পরিচিতি:
ইউরোপের নেদারল্যান্ডস ও জার্মানি অঞ্চলের উন্নত দুগ্ধজাত জাত। বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক দুধ উৎপাদনকারী গরুর জাত হিসেবে পরিচিত।

বৈশিষ্ট্য:
- গায়ের রঙ সাদা-কালো ছোপযুক্ত।
- শরীর বড় ও লম্বা।
- দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
- ক্রসব্রিডিংয়ের মাধ্যমে দেশি গরুর দুধ উৎপাদন বৃদ্ধি করতে ব্যবহৃত।
- উন্নত খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।
- রোগ সংবেদনশীলতা দেশি জাতের তুলনায় বেশি।
